বিটকয়েন ট্রেডিং বনাম বিনিয়োগ। সুবিধা এবং অসুবিধা

বিটকয়েন ট্রেডিং বনাম বিনিয়োগ। সুবিধা এবং অসুবিধা

বর্তমান অনলাইন ট্রেডিং মার্কেটে বিটকয়েন একটি সুপরিচিত নাম। সমগ্র বিশ্বের মানুষ বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। বর্তমান বাজারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে এর সাথে দীর্ঘদিনের একটু চুক্তি করা উচিত যাতে আপনি অধিক লাভ করতে পারেন নাকি দ্রুত ব্যবসা করে টাকা উপার্জনের জন্য এতে ট্রেড করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমাদের বিনিয়োগ এবং ট্রেডিং সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যিক।

ট্রেডিং বনাম বিনিয়োগঃ বিনিয়োগ এবং ট্রেডিং উভয় পদ্ধতি ট্রেডার এবং বিনিয়োগকারী ব্যবহার করেন আর্থিক লাভের আশায়। আপনি কোন পদ্ধতি থেকে ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন এই বিষয়ে একধরণের দ্বিধা কাজ করে সবসময়আসুন তাহলে জেনে নেই এর বিস্তারিত।

বিনিয়োগ নাকি ট্রেডিং এর মধ্যে কোনো সঠিক উত্তর নেই, কারণ উভয় থেকেই আপনি ভাল রিটার্ন পাবেন। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর, আপনি কোন পদ্ধতিতে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করেন। যারা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে অর্থ মার্কেটে রাখতে চান বা পারবেন তারা বিনিয়োগে বিশ্বাসী। আর যারা দ্রুত অর্থ লাভের আশা করেন তারা ট্রেডিং করেন।

বিনিয়োগে সাধারণত সম্পদ অধিক সময়ের জন্য ধরে রাখায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়, যতদিন পর্যন্ত এর থেকে ভাল রিটার্ন পাওয়া না যায়। বিনিয়োগ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আপনি যদি মার্কেট ভালভাবে গবেষণা করতে এবং ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন তাহলে বিনিয়গের ক্ষেত্রে আপনি ভাল রিটার্ন পাওয়ার আশা করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন বিনিয়োগকারীর জন্য ঝুঁকিবহুল হতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রেডিং হচ্ছে একটি স্বল্পমেয়াদী ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া। যেখানে অল্প সময়ের জন্য পণ্য বা মুদ্রা বা অন্য কিছু ক্রয় করে এবং যুক্তিসঙ্গত রিটার্ন আসার সাথে সাথে বিক্রয় করে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি বার বার পুনরাবৃত্তি করা হয় ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে। আপনি যদি ট্রেডিং করতে ইচ্ছুক হন তাহলে স্টপ লস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আপনার বিবেচনায় রাখতে হবে। ট্রেডিং একাধারে ঝুঁকিপূর্ণ এবং লাভজনক পদ্ধতি,  যেখানে আপনি যদি সঠিকভাবে সব কিছু মেনে না চলেন, তাহলে খুব দ্রুত অর্থ হারাতে পারেন।

বিটকয়েনে বিনিয়োগঃ বিটকয়েনে বিনিয়োগ অনেকটা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার মতোবিগত ৭-৮ বছর ধরে বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে অনেক ভাল রিটার্ন পেয়েছে, যেমনটা আর কোন বিনিয়োগে সম্প্রতি পাওয়া যায় নি। ধারণা করা হয়, আপনি যদি ৭-৮ বছর আগে বিটকয়েনে মাত্র ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতেন, তাহলে বর্তমানে সেই বিনিয়গের অর্থ ৫০০ কোটি টাকা হতো। বিটকয়েনের এই বাস্তবতা বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি আকৃষ্ট করছে প্রতিনিয়ত। এর দাম বৃদ্ধির আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে বিটকয়েন একটি সীমিত পরিমাণ হিসেবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে এজন্য চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এর যোগান বৃদ্ধির উপায় নেই। তাই যতো বেশি এর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, দাম ততবেশি বাড়তে থাকবে।

বিটকয়েনে ট্রেডিং: মূল্যের অস্থিরতাই বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে ধারণা করা হয়। বিটকয়েন মার্কেটে সুপরিচিত তার দাম দ্রুত পরিবর্তনের জন্যএর পরিবর্তনের মাত্রা সাধারণ শেয়ার, পণ্য বা মিউচুয়াল ফান্ডের তুলনায় অনেক বেশি। এর জন্য বিটকয়েনের ট্রেডিং অনেক বেশি ফলপ্রসূ। আপনি চাইলে বিটকয়েনের দাম যখন কমে তখন ক্রয় করে, পরবর্তীতে উচ্চদামে বিক্রয় করে লাভবান হতে পারেন। অনেকসময় ট্রেডাররা দামের এতো দ্রুত পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন হয়ে যান এবং ট্রেড ছেড়ে দেন। কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে ট্রেড নেন, তাহলে ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করায় সবচেয়ে বেশি উত্তম কাজ হবে।

তাই যুক্তিগত দিক দিয়ে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিটকয়েন বিনিয়োগের তুলনায় বিটকয়েন ট্রেডিং অধিক ফলপ্রসূ। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, বিনিয়োগকারীরাও এথেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছেন বিগত কয়েকবছরে। বিটকয়েনে ট্রেড করতে- এখানে ক্লিক করুন।

সুবিধা এবং অসুবিধাঃ বিটকয়েনের এমন অনেক সুবিধা রয়েছে, যা একে ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে অনেক বেশি জনপ্রিয় করতে সাহায্য করছে। আবার এটিও সত্যি যে কোনো কিছুই নিখুঁত হয় না, তাই বিটকয়েনেরও কিছু ত্রুটি আছে। নিম্নে বিটকয়েনের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বিটকয়েনের সুবিধাসমুহঃ

# বিটকয়েনের মাধ্যমে অতি দ্রুত অর্থ স্থানাতর করা যায়। এর জন্য আপনাকে ব্যাংক এর সময়সীমা, বিদেশে অর্থ পাঠানোর ঝামেলা অথবা অন্য কোনো ধরণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আপনার বিটকয়েনের নিয়ন্ত্রণ কেবলমাত্র আপনার কাছেই থাকবে। কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

# বিটকয়েন স্থানান্তরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের অধীনে থাকে বলে এটি একটি সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক। এতে নজরদারি ছাড়া কেউ অতিরিক্ত চার্জ বসাতে পারবে না। যদি কোনো চার্জ যোগ করতে হয় তবে ভোক্তাদের সাথে যোগাযোগ করা বাধ্যতামূলকবিটকয়েন পেমেন্টে কোন ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত থাকে না, এজন্য পরিচয় নকল অথবা চুরির সম্ভাবনা নেই। আপনার অর্থের নিরাপত্তা রক্ষার্থে বিটকয়েন ব্যাক আপ এবং এনক্রিপ্টও করা যেতে পারে।

# বিটকয়েন স্থানান্তরের যাবতীয় তথ্য ব্লকচেইনের মাধ্যমে সংরক্ষিত করা হয়। তাই আপনি সহজেই আপনার বিটকয়েনের তথ্য দেখতে পারবেন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত থাকলেও, তা লুকানো অবস্থায় থাকে। যা আপনি ছাড়া কেউ দেখতে পারবে না। যেকোন সময় যে কেউ বিটকয়েনের লেনেদেন ব্লকচেইনে যাচাই করতে পারবেন। বিটকয়েন সিস্টেমকে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান অথবা সরকার হস্তক্ষেপ কতে পারে না।

# বর্তমানে বিটকয়েন পেমেন্টে অনেক কম ফি কাটা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফি ছাড়ায় পেমেন্ট করা যায়। ব্যবহারকারীরা লেনদেন দ্রুততর করার জন্য ফি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। ফি যতবেশি হয় পেমেন্ট প্রক্রিয়া ততই তাড়াতাড়ি অগ্রাধিকার পাই। ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অতি সহজে বিটকয়েনকে সাধারণ মুদ্রায় রুপান্তর করতে পারেন। মুদ্রা রূপান্তরের সুবিধাটি আপনি ক্রেডিট কার্ড কিংবা পেপালের চেয়ে কম খরচে পেতে পারেন বিটকয়েনে।

# বিটকয়েন লেনদেন প্রত্যাবর্তন করা যায় না এবং এতে ব্যক্তিগত তথ্য বহন হয় না। তাই এটি ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ এবং তারা সম্ভাব্য জালিয়াতি থেকে রক্ষা পায়

এতক্ষণ আমরা বিটকয়েনের সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানতে পারলাম, এখন জেনে নেই এর অসুবিধাসমুহ।

বিটকয়েনের অসুবিধাসমুহঃ

# প্রকৃতপক্ষে বিটকয়েন কিছু ক্ষেত্রে অনেক জনপ্রিয় হলেও অনেক মানুষ ডিজিটাল মুদ্রা এবং বিটকয়েন সম্পর্কে অজ্ঞ। এটি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার জন্য মানুষকে আগে বিটকয়েন সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

# বিভিন্ন ব্যবসায় ক্ষেত্রে বিটকয়েনকে গ্রহণ করা হলেও এর পরিমাপের সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা সম্ভব না।

# বিটকয়েনের মূল্য অনেক বেশি অস্থির। কারণ এর চাহিদা খুব দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং পরিমাণ সীমাবদ্ধ। তবে আশা করা যায় সময়ের সাথে এই পরিস্থিতি শিথিল হয়ে যাবে।

# বিটকয়েন প্রক্রিয়া এখনো অপরিণত অবস্থায় রয়েছে যার উন্নয়নের অনেক কিছু বাকি রয়েছে। ডিজিটাল মুদ্রা আরো নিরাপদ এবং গ্রহণযোগ্য করতে এর বৈশিষ্ট্য, টুলস এবং সেবাসমুহকে উন্নত করা হচ্ছে।

# কোন নতুন মুদ্রা বাজারে প্রচলিত হওয়ার পূর্বে যেধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যায়, বিটকয়েন বর্তমানে সেই সমস্যার মধ্যে আছে। এর আরো প্রচার এবং প্রসারের প্রয়োজন আছে।

উপরুক্ত আলোচনায় আমরা বিটকয়েন মুদ্রার দুই পক্ষ সম্পর্কে জানতে পারলাম। একটি ভাল সিদ্ধান্ত নিতে আপনার উচিত তার ভাল এবং খারাপ উভয়পক্ষকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করা।
আজই বিটকয়েন ট্রেড করতে - এখানে ক্লিক করুন।