মার্কিন ডলার কি আরো শক্তিশালী হতে চলেছে?

মার্কিন ডলার কি আরো শক্তিশালী হতে চলেছে?

মার্কিন ডলার সম্প্রতি গত ২ মাস ধরে টানা মার্কেটের প্রধান কিছু মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থান রক্ষা করে এসেছে যা আগামিতেও অবধারিত থাকতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে প্রায় ৬ বার সুদের হার বৃদ্ধি করা, বেকারত্বের হারের পতন এবং সাম্প্রতিক GDP এর উন্নতি সব মিলিয়ে মার্কিন ডলার এখন কিছুটা শক্তিশালী অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে বলে বিবেচনা করা যায়।

সম্প্রতি FOMC Meeting Minutes যা ২৩ই মে অনুষ্ঠিত হয় তাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উঠে এসেছে যা আগামিতে মার্কিন ডলারের প্রবণতার ব্যাপারে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। অর্থনীতিক অবস্থার ব্যাপারে FOMC এর মেম্বাররা অনেক ইতিবাচক বক্তব্য করেন যার মূল উপকরন ছিল লেবার মার্কেটের শক্তিশালী হওয়া এবং মূল GDP এর ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী Consumer Price Inflation, যা ১২ মাসের শতকরা হিসেবে গত মার্চ মাসে ২% পর্যন্ত বজায় রাখতে সক্ষম হয়। যদিওবা Non-Farm Employment মার্চ মাসে এর পূর্ববর্তী মাসে ন্যায় তেমন বৃদ্ধি পায়নি তবে বাৎসরিক চার ভাগের এক ভাগের ফলাফল অনুযায়ী তা কোন অংশে কম নয়।

বছরের প্রথম কোয়ার্টারে ভোক্তা ব্যয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ছে যা যদিওবা জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে তেমন ভালো ফলাফল প্রকাশ না করলেও তা শেষের দিকে ভালই উন্নতি দেখিয়েছে। এই ব্যাপারে মূল কারন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ফেডেরাল কর ফেরত (Federal Tax Refund) যার দরুন ভোক্তারা আরো বেশি ক্রয় করতে উৎসাহিত হয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে ভালো উন্নতি হলেও কয়েক ক্ষেত্রে অত বেশি অগ্রসর লক্ষ্যনীয় না যেমন আবাসন ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের প্রথম কোয়ার্টারে তেমন কোন উন্নতি দেখা যায়নি, রপ্তানির তুলনায় আমদানি কিছুটা বেশি রয়েছে যদিওবা ইকোনমিক এনালাইসিস বুয়েরো (Bureau of Economic Analysis) এর মতে রপ্তানি যতটুকু হয়েছে তা ২০১৮ সালের প্রথম কোয়ার্টারের অগ্রগতির কিছুটা অংশ হিসেবে কাজ করেছে এবং সরকারের ক্রয় অনেকটুকু ধীরগতি রয়েছে যা এমন উন্নতির সময়ে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকার কথা।  

সম্প্রতি লক্ষ্য করা হয়, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কিছুটা পিছুটান থাকলেও তা অর্থনীতিতে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা যাচ্ছে। গত FOMC Meeting এ প্রস্তাবিত ২৫ টি পয়েন্ট পূর্ণরূপ পেয়েছে বলে জানা গেছে যার দরুন আগামি FOMC তে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার হার ৯০% এর উপরে রয়েছে ধারনা করা হচ্ছে।

ব্যাংকিং খ্যাতে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে যেমন মার্চ এবং এপ্রিল মাসে কমার্শিয়াল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ঋণের হার বৃদ্ধি পেয়ছে যা আগামিতে দেশের অবকাঠামো এবং চাকুরীর হার বৃদ্ধির এক প্রধান উপকরন হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ঋণের হার বৃদ্ধির মূল কারন হিসেবে ধরা হচ্ছে ঋণ নেওয়া এবং তার শর্ত সহজতর করা যা আগামিতে আরো নতুন এবং পুরাতন ব্যবসাকে আরো অগ্রগতি করতে সাহায্য করবে।

FOMC Meeting এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ব্যাপারে ইতিবাচকভাব লক্ষ্য করা যায় যা আগামিতে মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। Real GDP আগামি কোয়ার্টারে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে যা আগামি ২০২০ সাল পর্যন্ত অবধারিত থাকবে। বেকারত্বের হার আগামি কয়েক বছরে আরো নিম্নবর্তী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদী অবস্থায় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশঙ্খা করা যাচ্ছে।

FOMC মেম্বাররা মনে করেন মনিটারি পলিসি এবং সুদের হার অতপ্রতভাবে জরিত তাই আগামিতে সুদের হার বৃদ্ধির আগে মুদ্রাস্ফীতি ২% এ থাকছে কিনা তা পরিক্ষা করে নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ কারন অতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের তালমেল না থাকায় মার্কিন ডলারের কিছুটা পতন লক্ষ করা গিয়েছিল যা এখন FOMC মেম্বাররা কোন প্রকারেই তা হতে দিতে চায় না। সবকিছু বিবেচনা করার পর আগামি FOMC Meeting এ সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে চিন্তা করা হবে যদিওবা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা বেশি বললেই চলে।
আজই USD পেয়ারগুলোতে ট্রেড করতে - এখানে ক্লিক করুন।